হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ পাঠানো নিয়ে ট্রাম্পের প্রস্তাব নাকচ করে দিলো জাপান-অস্ট্রেলিয়া
ইরানের হামলা থেকে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে রক্ষা করতে এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আহ্বান জাপান ও অস্ট্রেলিয়া প্রত্যাখ্যান করেছে।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে গভীর উদ্বেগের মধ্যে ট্রাম্প সপ্তাহান্তে বিভিন্ন দেশকে 'সম্মিলিত প্রচেষ্টায়' যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দিলেও জাপান জানিয়েছে যে তারা 'এই মুহূর্তে' সেখানে কোনো যুদ্ধজাহাজ পাঠাবে না।
যুদ্ধের শুরু থেকেই হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় এবং ইরানের ক্রমাগত হুমকির মুখে ট্রাম্প নির্দিষ্ট করে চীন, যুক্তরাজ্য, জাপান, ফ্রান্স ও দক্ষিণ কোরিয়ার নাম উল্লেখ করে সহযোগিতা চেয়েছিলেন। ন্যাটো সদস্যরা এগিয়ে না এলে জোটের ভবিষ্যৎ 'খুবই খারাপ' হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি দেশটির পার্লামেন্টে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা কোনো সামুদ্রিক নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনার কথা ভাবছে না। টোকিওর এই অনমনীয় অবস্থান ট্রাম্পের দাবিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যেখানে তিনি প্রণালীটির সুবিধাভোগী দেশগুলোকে নিরাপত্তার দায়িত্ব নিতে বলেছিলেন।
অস্ট্রেলিয়াও নিশ্চিত করেছে যে তারা সেখানে কোনো জাহাজ পাঠাচ্ছে না। দেশটির পরিবহন মন্ত্রী ক্যাথরিন কিং জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী উন্মুক্ত রাখা গুরুত্বপূর্ণ হলেও তারা এতে কোনো অংশ নিচ্ছে না এবং তাদের কাছে কোনো অনুরোধও করা হয়নি।
যুক্তরাজ্যও সরাসরি জাহাজ পাঠানোর বদলে বিকল্প ভাবছে। ব্রিটিশ মন্ত্রীরা হরমুজ প্রণালীতে খনি অপসারণকারী ড্রোন পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন। হোয়াইটহল বা ব্রিটিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উদ্বেগ প্রকাশ করছেন, সরাসরি যুদ্ধজাহাজ পাঠালে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে এবং সংঘাত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
মিত্র দেশগুলোর সতর্ক ও এড়িয়ে চলার নীতি স্পষ্ট করছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সরাসরি সামরিক জোটে অংশ নিতে ঝুঁকিতে পড়তে চাইছে না।
হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের জ্বালানি তেল ও গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এটি বন্ধ থাকলে বিশ্ব অর্থনীতিতে স্থবিরতার আশঙ্কা রয়েছে। কিন্তু ট্রাম্পের জোটবদ্ধ প্রচেষ্টার আহ্বান মিত্রদের শীতল প্রতিক্রিয়ার মুখে পড়ায় ওয়াশিংটনের একক আধিপত্যের সীমাবদ্ধতাও প্রকাশ পাচ্ছে। মিত্রদের এই অনাগ্রহের ফলে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক পরিকল্পনা নতুন কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে, এ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান