ইরান যুদ্ধকে অপ্রয়োজনীয় আখ্যা দিয়ে প্রকাশ্যে যুদ্ধ বন্ধের দাবি জানালো নিহত মার্কিন সেনার পরিবার
ইরাকে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ওহাইয়োর এক সেনা নিহতের ঘটনায় তাঁর পরিবার ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধ বন্ধের আকুতি জানিয়েছে। তাঁদের মতে, এই যুদ্ধ ছিল 'অনভিপ্রেত' এবং এই প্রাণহানি সম্পূর্ণরূপে রোধ করা সম্ভব ছিল।
গত শুক্রবার ইরাকে বিধ্বস্ত হওয়া ওই বিমানে থাকা ২৮ বছর বয়সী টাইলার সিমন্স মার্কিন বিমান বাহিনীর সদস্য ছিলেন। তাঁর এই মৃত্যুতে ইরান যুদ্ধে নিহত মার্কিন সেনার সংখ্যা বেড়ে ১৩ তে দাঁড়িয়েছে।
শোকসন্তপ্ত সিমন্সের পরিবার যুক্তরাষ্ট্রকে এই যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে। তাঁর চাচাতো ভাই স্টিফান ডগলাস এনবিসি৪-কে বলেন, 'এটি রোধ করা যেত। আমাদের এই যুদ্ধে জড়ানোর কোনো প্রয়োজন ছিল না। এটি অনভিপ্রেত এবং শেষ পর্যন্ত আমাদের কপালে এটাই জুটল।'
সিমন্সের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর পরিবার রাজনৈতিক পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে।
এর আগে ইরাকে বিমান বিধ্বস্তে নিহত ৬ সেনার পরিচয় প্রকাশ করেছে মার্কিন সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরাকের পশ্চিমাঞ্চলে চলতি সপ্তাহের শুরুতে একটি জ্বালানি সরবরাহকারী (রিফুয়েলিং) সামরিক বিমান দুর্ঘটনায় পড়লে ওই ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হন।
নিহত ছয় মার্কিন সেনা হলেন—জন ক্লিনার (৩৩), আলাবামার অবার্নের বাসিন্দা; আরিয়ানা সাভিনো (৩১), ওয়াশিংটনের কোভিংটন; অ্যাশলি প্রুইট (৩৪), কেনটাকির বার্ডসটাউন; সেথ কোভাল (৩৮), ইন্ডিয়ানার মুরসভিল; কার্টিস অ্যাংস্ট (৩০), ওহাইওর উইলমিংটন; এবং টাইলার সিমন্স (২৮), ওহাইওর কলম্বাস।
এর মধ্যে প্রথম তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর সদস্য ছিলেন। বাকি তিনজন যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার ন্যাশনাল গার্ডে কর্মরত ছিলেন। পেন্টাগন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ এখনো তদন্তাধীন। তবে এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, বিমানটি হারানোর ঘটনা শত্রুপক্ষের গুলি বা নিজেদের বাহিনীর ভুলবশত হামলার কারণে ঘটেনি।
তথ্যসূত্র : দ্য গার্ডিয়ান